তিনি সতর্ক করে বলেন, শত্রুতাপূর্ণ পক্ষগুলো এআই ব্যবহার করে গুজব ছড়াতে পারে। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর তথ্য তৈরি করে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা সম্ভব।
চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তামন্ত্রী আরও বলেন, এআই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামোর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে তৈরি নতুন প্রজন্মের এআই মডেলগুলো সাইবার হামলা চালানোর প্রযুক্তিগত বাধা ও খরচ কমিয়ে দিতে পারে।
চেনের মতে, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো স্মার্ট ওয়েব ক্রলার, তথ্য বিশ্লেষণ ও ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহের প্রযুক্তি ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় তথ্য, ব্যবসায়িক গোপনীয়তা এবং ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছে।
বিদেশি এআই ব্যবস্থায় সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহার করার কারণেও তথ্য ফাঁস হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। তার মতে, ওপেন সোর্স এআই এজেন্টগুলোর কিছু কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে। এসব দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে দূর থেকে যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করা এবং গোপন তথ্য ফাঁস করা সম্ভব হতে পারে।
চেন আরও বলেন, এআই প্রযুক্তির ওপর কয়েকটি দেশের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বিশ্বে প্রযুক্তিগত বৈষম্য বাড়াচ্ছে। প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ, শিল্পমানের ওপর একচেটিয়া কর্তৃত্ব এবং বন্ধ প্রযুক্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে কিছু দেশ বৈশ্বিক এআই সরবরাহব্যবস্থাকে খণ্ডিত করছে।
তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করলেও তার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের চলমান প্রযুক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। এআই উন্নয়নে চীনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না বলে যুক্তরাষ্ট্র আগেই জানিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র চীনের প্রযুক্তি খাতের ওপর চিপ সরবরাহ, বিনিয়োগ, বাজারে প্রবেশ এবং দক্ষ কর্মী বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
চেন ইশিন এআই ব্যবহারে বিদেশি গুপ্তচরবৃত্তি, রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য চুরি, অপতথ্য ছড়ানো এবং চীনকে কৌশলগতভাবে চাপে ফেলার চেষ্টা শনাক্ত করতে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি আধিপত্যবাদ, প্রযুক্তিগত বাধা ও একচেটিয়া জোটের বিরোধিতা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে একটি ন্যায়সংগত ও উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক এআই নীতিমালা তৈরির কথা বলেন।
চীন ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক এআই নীতিমালা তৈরিতে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ নিচ্ছে। গত জুলাইয়ে রাশিয়া, কাজাখস্তান, লাওস, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়াসহ ২৯টি দেশ সাংহাইয়ে চীনের সমর্থিত ওয়ার্ল্ড এআই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন গঠনের চুক্তিতে সই করে।
এই সংগঠনের লক্ষ্য হলো উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিভিন্ন দেশের নীতিগত পার্থক্যকে সম্মান করে একটি বৈশ্বিক এআই নীতিমালা তৈরি করা।