এ ধরনের ঘটনায় যাত্রীরা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নোটিশে এটিকে সংবিধানের ৪২ অনুচ্ছেদে থাকা সম্পত্তির মৌলিক অধিকার এবং ৩২ অনুচ্ছেদে থাকা জীবনের অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, রানওয়ে ও ব্যাগেজ সর্টিং এলাকায় সিসিটিভির অনুপস্থিতি বা নজরদারির সীমাবদ্ধতাকে কাজে লাগিয়ে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মী ও লোডারদের একটি অংশ এ ধরনের অপরাধ করছে। এ কারণে লাগেজ পরিবহনের পুরো প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমানতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ জন্য উড়োজাহাজের কার্গো অংশ থেকে লাগেজ খালাস, ট্রলিতে তোলা, র্যাম্প এলাকা পার হয়ে ব্যাগেজ বেল্টে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া উচ্চমানের সিসিটিভির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অ্যারাইভাল লাউঞ্জের বড় পর্দায় এ কার্যক্রম সরাসরি যাত্রীদের দেখানোর ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।
নিরাপত্তা বা তল্লাশির প্রয়োজনে কাস্টমস কিংবা নিরাপত্তা সংস্থা কোনো যাত্রীর লাগেজ খুলে পরীক্ষা করলে সেটিও ক্যামেরায় ধারণ করে যাত্রীর সামনে লাইভ প্রদর্শনের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া বিমানবন্দরে লোডার, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগে ঘুষ ও অনিয়ম বন্ধের দাবিও জানানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশনের সক্রিয় প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারি এবং মেধাভিত্তিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ কাঠামো বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।
আইনি নোটিশে আগামী ১০ দিনের মধ্যে দেশের সব বিমানবন্দরে লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের লাইভ সিসিটিভি সম্প্রচার চালু, প্রকাশ্যে লাগেজ তল্লাশি নিশ্চিত এবং দুদকের মাধ্যমে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলেও নোটিশে জানানো হয়েছে।