বৈঠকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্সে ইইউর ভূমিকার বিষয়টি উঠে আসে। আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর সরকারের লক্ষ্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মাইকেল মিলার বিপুলসংখ্যক কর্মী পাঠানো রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স প্রদান ও তাদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান।
ইইউ রাষ্ট্রদূত নৈতিক, নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যয় কমানো এবং বৈধ পথে ইউরোপে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মাইকেল মিলার জানান, বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশের সুযোগ সম্প্রসারণে ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’সহ বিভিন্ন বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থা জোরদারে কাজ করবে ইইউ। পাশাপাশি বাংলাদেশে ‘ইউরোপিয়ান ট্রেইনিং ফাউন্ডেশন’-এর কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বিদেশফেরত কর্মীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসনেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইনে ট্রেড ইউনিয়ন ও দল গঠনের স্বাধীনতা, ইপিজেড আইনের সঙ্গে প্রচলিত শ্রম আইনের সামঞ্জস্য, শিশুশ্রম নির্মূল এবং নিয়মিত কারখানা পরিদর্শনের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন ইইউ রাষ্ট্রদূত।
মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল হক চৌধুরী বলেন, রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়। এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম সরেজমিনে যাচাই করতে একাধিক পরিদর্শক কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরিদর্শন শেষে এসব কমিটি প্রতিবেদন জমা দেবে।
এদিকে ইতালির সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান বৈধ অভিবাসন কার্যক্রম নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে ইইউকে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বিদেশফেরত কর্মীদের পুনর্বাসনের জন্য পরিচালিত ‘রেইজ’ প্রকল্পের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।