মাদক সরবরাহের অভিযোগে আগে আটক কয়েকজন তরুণের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করতে গিয়ে পুলিশ এই চক্রের সন্ধান পায়। এরপর লুইস ও তার সহযোগীদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়।
আলমারিতে লুকিয়েও রক্ষা মেলেনি
তদন্তের অংশ হিসেবে গত ৭ জুলাই লুইসের ওয়েম্বলির বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশ বাড়িতে প্রবেশের পর নিজেকে আড়াল করতে দ্রুত একটি আলমারির ভেতর লুকিয়ে পড়েন তিনি।
তবে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ সদস্যরা অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে খুঁজে বের করেন। গ্রেপ্তারের পর পুলিশকে দেখে বিস্মিত হয়ে লুইস জানতে চান, ‘আপনারা আমাকে কীভাবে খুঁজে পেলেন?’
যে ভুলে শনাক্ত হয় তার অবস্থান
নিজের অবস্থান গোপন রাখতে লুইস তার ডিভাইসে ভিপিএন ব্যবহার করতেন। কিন্তু তদন্তকারীদের মতে, একটি ডিভাইস স্থানীয় একটি পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে যাওয়াই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।
এই সংযোগের সূত্র ধরে পুলিশ তার অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এরপরই তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।
বাড়ি থেকে মাদক, নগদ টাকা ও অস্ত্র উদ্ধার
অভিযানে লুইসের বাড়ি থেকে প্রায় ৮ হাজার ৮০০ পাউন্ড মূল্যের ‘এ’ শ্রেণির মাদক, যার মধ্যে কোকেন ও হেরোইন ছিল, উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া জব্দ করা হয়—
প্রায় ৮ হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ;
ছয়টি মোবাইল ফোন;
একটি গুলিসহ আগ্নেয়াস্ত্র;
১৩ রাউন্ড ৯ মিমি গুলি;
একটি বড় ছুরি বা মাচেতে;
একটি ফ্লিপ নাইফ।
পুলিশের দাবি, জব্দ করা ছয়টি ফোনের একটি ‘ববি’ মাদক সিন্ডিকেটের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহার করা হতো।
ফোনে মিলল ২৫০ মাদকসেবীর তথ্য
লুইসের মোবাইল ফোনের ডেটা বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা আরও তথ্য পান। তার ফোনে প্রায় ২৫০ জন মাদকসেবীর একটি কন্টাক্ট তালিকা পাওয়া যায়। এসব নম্বর থেকে প্রতিদিন তার কাছে শতাধিক ফোন আসত বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্তের দায়িত্বে থাকা গোয়েন্দা কনস্টেবল লরেন গ্রেস্টির ভাষ্য অনুযায়ী, নর্থ কিলবার্ন এলাকায় মাদক সরবরাহের কাজে লুইস তরুণ ও কিশোরদের ব্যবহার করতেন।
পুলিশের দাবি, এই মাদক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর ওই তরুণদের কেউ কেউ সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো অপরাধেও জড়িয়ে পড়ে।
১২ বছর ৯ মাসের কারাদণ্ড
কোকেন ও হেরোইন সরবরাহ এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে জোয়েল লুইসকে দোষী সাব্যস্ত করে হ্যারো ক্রাউন কোর্ট।
আদালত তাকে ১২ বছর ৯ মাসের কারাদণ্ড দেন।
দীর্ঘদিন প্রযুক্তির সাহায্যে পুলিশের নজর এড়িয়ে চললেও শেষ পর্যন্ত একটি পাবলিক ওয়াই-ফাই সংযোগই তার অবস্থান শনাক্ত করার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে দাঁড়ায়।