গত সপ্তাহে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস—বায়রার সদস্যদের একাংশের সঙ্গে বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ জানান, মালয়েশিয়া ইস্যুতে সরকার তাকে সব তথ্য জানায় না।
তিনি বলেন,
“এই মালয়েশিয়ার যে ইস্যুটা, এই ইস্যুটা থেকে প্রথম থেকেই সরকার বা কর্তৃপক্ষ আমাকে একটা সার্টেন ইনফরমেশনের বাইরে কিছুই জানায়নি।”
অন্যদিকে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হকও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানেন না বলে জানিয়েছেন।
তিনি বলেন,
“মালয়েশিয়ার বিষয়ে আমি বিস্তারিত জানি না। এ বিষয়ে আমি কথা বলতে চাই না। বিষয়টি মন্ত্রী ভালো বলতে পারবেন। মন্ত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা—তারা যদি শুরু থেকেই বিষয়টি দেখভাল করে থাকেন, মালয়েশিয়ার বিষয়টি তারা ভালো বলতে পারবেন।”
বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর বক্তব্য জানতে কয়েকবার তার দপ্তরে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে দেশটির ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দুই দফা আলোচনা হলেও সেখানে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও প্রতিমন্ত্রীর কেউ ছিলেন না বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এমন সমন্বয়হীনতা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, মালয়েশিয়ার একটি সেক্টরকে কেন্দ্র করেই অনেক স্টেকহোল্ডার ও অংশীদার জড়িত। তাই মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের মধ্যে সমন্বয়ের পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যেও সমন্বয় প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “যেহেতু এটা প্রবাসকেন্দ্রিক একটা বিষয়, তাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি।”
প্রথমে সরকারি পর্যায় থেকে আগস্টের শেষে মালয়েশিয়ায় অভিবাসন কার্যক্রম চালুর কথা বলা হয়েছিল। পরে সেই সময়সীমা পিছিয়ে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ করা হয়। তবে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ ঘনিয়ে এলেও এখনো কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি।