মালয়েশিয়া সরকারের দাবি, যাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে তারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে সম্মতি দিয়েছেন। তবে মানবাধিকারকর্মীদের বক্তব্য, রোহিঙ্গাদের সামনে কার্যত অন্য কোনো বিকল্প ছিল না। ফলে এই প্রত্যাবাসনকে পুরোপুরি স্বেচ্ছামূলক বলা যায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, প্রত্যাবাসিত রোহিঙ্গারা সত্যিই স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরেছেন কি না, তা যাচাই করার জন্য তাদের সঙ্গে সংস্থাটির কর্মকর্তাদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
এদিকে, মালয়েশিয়ার শরণার্থী ও অভিবাসী আটক কেন্দ্রগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এসব অভিযানের পরই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের কার্যক্রম আরও গতি পেয়েছে। ২০২৬ সালে দেশটিতে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৫০ হাজারের বেশি শরণার্থী আটক হওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে।
মালয়েশিয়ায় শরণার্থীদের নিয়ে জনমত ক্রমেই কঠোর হওয়ার প্রেক্ষাপটে গত জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম প্রত্যাবাসন কার্যক্রমের ঘোষণা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় আরও ৩ হাজার ৫০০-এর বেশি শরণার্থীকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা করছে দেশটির সরকার।
তবে চলমান সংঘাত, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং রোহিঙ্গাদের মানবিক অবস্থার কথা বিবেচনায় নিয়ে এই প্রত্যাবাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।