এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী স্থানীয় কুয়েতিদের কাছ থেকে ‘মাজরা’ বা কৃষি খামার ইজারা নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করছেন। উৎপাদিত ফসল সরবরাহ করা হচ্ছে কুয়েতের কেন্দ্রীয় সবজি বাজার ও বিভিন্ন সুপারশপে।
তবে কুয়েতের আবহাওয়া কৃষিকাজের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। গ্রীষ্মকালে দেশটির তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি উঠতে পারে। ফলে অতিরিক্ত তাপ মোকাবিলা এবং সারা বছর উৎপাদন অব্যাহত রাখতে অনেক খামারে আধুনিক গ্রিনহাউস প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয়ও তুলনামূলক বেশি।
জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত তীব্র গরমের সময় পেরিয়ে শীত মৌসুমের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন কৃষির সঙ্গে যুক্ত প্রবাসীরা। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করা হয় টমেটো, বেগুন, কাঁচামরিচ, লালশাক, ধনিয়াপাতা, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, পুদিনা, কলমিশাক, লাউ ও কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল।
শীত মৌসুমে আবদালি ও অফরার কৃষি খামারগুলোতে দেখা যায় ভিন্ন এক পরিবেশ। সবুজে ঘেরা এসব খামারে স্থানীয় কুয়েতি নাগরিক ও বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসেন। কেউ কেউ খামার থেকেই সংগ্রহ করেন তাজা ফল ও সবজি।
প্রতিকূল মরুভূমিতে কৃষিকাজ করে প্রবাসী বাংলাদেশিরা শুধু নিজেদের কর্মসংস্থান ও আয় নিশ্চিত করছেন না, স্থানীয় বাজারে কৃষিপণ্য সরবরাহেও ভূমিকা রাখছেন। তাদের এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশিদের কর্মদক্ষতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবেও উঠে আসছে।